নিকোলস আর কিউই লেজের ঝাপটা

a13t1646

বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া দিন ভাসিয়ে নিল যেন বাংলাদেশের শরীরী ভাষা ও মোমেন্টামও। দ্বিতীয় দিনে দাপুটে বাংলাদেশ চতুর্থ দিন সকালে বিবর্ণ। লিড পাওয়ার আশায় শুরু হয়েছিল দিন, উল্টো গুণতে হলো বড় লিড।

ক্যারিয়ারের প্রথম শতরান থেকে দুই রান দূরে আউট হওয়ার হতাশায় মাঠ ছেড়েছেন হেনরি নিকোলস। কিন্তু তার আগে হতাশ করে ছেড়েছেন বাংলাদেশকে। ভুগিয়েছে কিউই ব্যাটিংয়ের লেজও। আর বরাবরের মত ক্যাচ হাতছাড়া তো ছিলই।

এই সবকিছুর যোগফল নিউ জিল্যান্ডের ৬৫ রানের লিড। প্রথম ইনিংসে তুলেছে তারা ৩৫৪ রান। শেষ তিন জুটিতে এসেছে ৯৮ রান!

আগের দিনের টানা বৃষ্টিতে উইকেট স্যাঁতস্যাঁতে। তাই আধ ঘন্টা আগে খেলা শুরুর কথা থাকলেও তা আর হয়নি। উইকেট ছিল আর্দ্র। কিন্তু বাংলাদেশ পারল না ফায়দাটা নিতে।

ভালো বোলিং হয়েছে, পাশাপাশি হয়েছে রান নেওয়ার মত আলগা বলও। নিকোলসের পাশপাশি সাউদি-ওয়েগনার কাজে লাগিয়েছেন উপহার। দুই লোয়ার অর্ডারকেই জীবন উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।

কামরুল ইসরাম রাব্বির বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ মিস তো অবধারিতই, গালিতে ছেড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

অষ্টম উইকেটে সাউদি ও নিকোলসের জুটি ৩০ রানের। তবে বাংলাদেশকে বেশি পুড়িয়েছে নবম উইকেটে নিকোলস ও ওয়েগনারের ৫৭ রানের জুটি।

সাউদিকে ফিরিয়েছেন সাকিব। আর সেই ক্যাচ নেওয়া মিরাজ পেয়েছেন নিকোলসের কাঙ্ক্ষিত উইকেট। বলটি যদিও ছিল স্টাম্পের বাইরে ঝুলিয়ে দেওয়া নিরীহ বল, নিকোলস টেনে আনলেন স্টাম্পে। ৯৮ রানে আউট হওয়ার হতাশায় ড্রেসিং রুমে ফিরলেন হনহন করে।

নুরুল হাসানের দারুণ প্রত্যুতপন্নমতিত্ব আর স্কিলে ওয়েগনারের রান আউটে খুব বেশি বড় হয়নি শেষ জুটি। তবে সর্বনাশ যা হওয়ার, আগেই হয়েছে অনেকটা।

ব্যাটসম্যানদের পালা সেটি মেরামতের। ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে শুরু দিনটায় আপাতত ভাবনা, ম্যাচ বাঁচানো যাবে তো?

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯২.৪ ওভারে ৩৫৪ (আগের দিন ২৬০/৭) (নিকোলস ৯৮, সাউদি ১৭, ওয়াগনার ২৬, বোল্ট ৭*; তাসকিন ১/৮৬, মিরাজ ২/৫৯, রুবেল ০/৬৫, কামরুল ২/৭৮, সাকিব ৪/৫০, সৌম্য ০/১০)।

Advertisements